বুটেক্সে ৪ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ 

বুটেক্স সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৪১ পিএম


বুটেক্সে ৪ শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ 
ছবি : সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. এহসানুল হক রাফি, রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব ও মাহিন জামান।

ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ল্যাব শেষে বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী মিরাজকে অনুসরণ করে পকেট গেটের সামনে তাকে ঘিরে ধরেন। তাদের ভাষ্য, এ সময় ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমন সরকার ও মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত এবং ৪৮তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বর্ষণ বণিক মিরাজকে মারধর করেন। তাদের সঙ্গে থাকা ৪৯তম ব্যাচের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ সৌমিক চন্দ্র, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের সুজিত রায় ও ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আবিদ হাসান শিশিরসহ কয়েকজন এতে সহযোগিতা করেন বলেও জানান তারা। একপর্যায়ে মিরাজের পরনের জামা ছিঁড়ে যায়। পরে পর্ব মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে বর্ষণ বণিক তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন পর্ব।

আরও পড়ুন

ঘটনার বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুটেক্সের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এর প্রতিবাদে আমি ফেসবুকে একটি পোস্টে মন্তব্য করি। সেখানে আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের মিষ্টি বিতরণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম। আমার ধারণা, ওই মন্তব্যের জেরেই আমার ওপর হামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এফএসডি ল্যাব থেকে বের হলে পকেট গেটের সামনে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরেন। প্রান্ত আমাকে জোর করে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় আমার কলার ধরে টান দিলে টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে আমাকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।

আহত শিক্ষার্থী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব বলেন, মিরাজকে মারধরের সময় তাকে রক্ষা করতে আমরা এগিয়ে যাই। এ সময় প্রান্ত একটি বাঁশ নিয়ে মিরাজকে মারতে এগিয়ে আসেন। তখন আমি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করি। ভিডিও করার সময় বর্ষণ বণিক আমার কলার ধরে মুখে ঘুষি মারেন।

অভিযোগের বিষয়ে মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের উসকানিমূলক কথা বলা ও ‘লীগ’ ট্যাগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই মিরাজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উসকানিমূলক আচরণ করায় পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে যায়। আমরা মারামারি এড়ানোর চেষ্টা করেছি। তার জামা ছিঁড়ে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের ফাঁসাতে ও নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বর্ষণ বণিকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে বুটেক্স ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, আজকের এই অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। যেই ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট ছাত্রসংগঠন কর্তৃক হতো, এখন সেই ট্যাগিংয়ের অপরাজনীতি গুপ্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে হচ্ছে। আমরা এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।

বুটেক্সের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দাও তোমরা। অভিযুক্তদের নামের তালিকাসহ আবেদন করো। আমরা সব অভিযোগ গ্রহণ করব এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করব। সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission